জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, সেই অভিযোগে তাদের অনেককে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছিল আমিরাতের আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথম দফায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগে কয়েকজন মুক্তি পেলেও পরবর্তী সময়ে আটক হওয়া বহু শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় গত ২৭ জুন প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি আলোচনায় এলে দ্রুত নড়েচড়ে বসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শেষে নিশ্চিত হয় ২৪ জন প্রবাসীর মুক্তির প্রক্রিয়া।
সংবাদে শতাধিক প্রবাসীর বন্দিদশার কথা উল্লেখ থাকলেও তখন ২৫ জনের নির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁর মরদেহ ফেরত আসে দেশে। বাকি ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেছে—তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মোট কতজন এখনো আমিরাতে বন্দি রয়েছেন, তা নিয়ে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে, গ্রেপ্তার প্রবাসীদের মুক্তিতে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দীর্ঘদিন নেওয়া হয়নি। ফলে পরিবার–পরিজনদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। বহু প্রবাসীকে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে, কারণ আন্দোলনের ভিডিও–ছবি দেখে তাদের পরিচয় আমিরাতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এ কারণে কেউ দেশে ফিরতে গেলেই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি ছিল বলে জানা যায়।
আরও
নাম প্রকাশ–অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুরো ঘটনা স্পষ্টভাবে সামনে আসে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মুক্তির প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়। ইতোমধ্যে ২৪ জনের মুক্তির বিষয়ে কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানান, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জুলাই অভ্যুত্থানে সংহতি জানানোয় গ্রেপ্তার হওয়া অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠন—বিশেষ করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স—এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গত বছরের ১৯ জুলাই বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে আমিরাতে কয়েকশ প্রবাসীর মিছিল করার পর তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দেশের আইনে পরবর্তীতে অনেককে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবার সরকারের উদ্যোগে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথে।











