সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজে ১৫ মাস ধরে আটকা পড়ে থাকা বাংলাদেশের যুবক আজহারুল হক সিফাত (৩৫) শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার পরিবার জানাচ্ছে, সিফাতকে জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছে না এবং দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
সিফাত ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিখারি গ্রামের লাল মিয়া ফকির বাড়ির মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে। দেশে ফিরে পরিবারকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় তিনি সৌদি আরবের দুবাই গিয়েছিলেন এবং সেখানে ‘প্রাইম ট্যাঙ্কারস’ কোম্পানির অধীনে ‘এমটি গ্লোবাল পিস’ নামের জাহাজের ক্রু হিসেবে কাজ শুরু করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, তার কাজের মেয়াদ ছিল ৬ মাস, কিন্তু ১৫ মাস ধরে জাহাজে আটকে রাখা হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল তার সাইন-অফ হওয়ার কথা ছিল, তবে কোম্পানি ও চার্টার পার্টির আর্থিক দ্বন্দ্বের কারণে তার পাসপোর্ট ও সিডিসি আটকে রাখা হয়েছে। জাহাজের অধিনায়ক ইউক্রেনীয় আলভার্ট সেরজেই ক্রুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন।
আরও
বর্তমানে সিফাত হামরিয়াহ পোর্টের ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে আটকা রয়েছেন। সেখানে তিনি এবং আরও ১৮ জন ক্রু—১৭ জন ভারতীয় ও একজন ইউক্রেনীয়—১৫ মাস ধরে সমুদ্রে বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সিফাতের অবস্থার কথা পরিবারের কাছে জানা গেছে না।
সিফাতের মা ফেরদৌস আরা বেগম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, “আমার ছেলের জন্য কেউ এখনো সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। আমি একজন সাধারণ গৃহিণী, প্রতিদিন প্রহর গুনছি। কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়ে তাকে সাইন-অফ করিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে সাহায্য করুন।” তিনি সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ছেলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।












