সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশের প্রবাসীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে পাড়ি জমিয়ে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করেন। তবে বর্তমানে ইউএই কর্তৃপক্ষ নতুন শ্রমিকভিসা, ভিজিট ভিসা, ভিসা হোল্ডার পরিবর্তন এবং পারিবারিক ভিসা সীমিত বা স্থগিত করেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১২ সালের পর সাধারণ শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকলেও করোনা পরবর্তী কিছু বিশেষ ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়া হতো। বর্তমানে নির্দিষ্ট উচ্চপ্রফেশন ক্যাটাগরিতে সীমিত ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। অনেক বৈধ ভিসা থাকলেও কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকার কারণে কেউ কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, আবার কেউ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।
ভিসা বন্ধের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইউএই উল্লেখ করেছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, ভুয়া নথি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং দালালচক্রের প্রতারণা। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি “সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স” প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক তানাপোড়েনও ভিসা বন্ধের কারণ হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও
সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা দূতাবাস ও সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। শ্রমিকদের স্কিলভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা, দালালচক্র নির্মূল করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকি ও নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া পরিচালনা করাও সমাধানের অংশ হতে পারে।
যদি এসব পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে আমিরাতে ভিসা বন্ধ কেবল সাময়িক সংকট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। রাষ্ট্র, প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।












