সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস যথেষ্ট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে ভিসা কখন পুনরায় খোলা হবে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি মূলত আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ভিসা জটিলতা প্রভাব ফেলছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। আগে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, সনদ জালিয়াতি ও লিঙ্গ পরিবর্তনসহ নানা অভিযোগ উঠে, যা আমিরাত সরকারের কড়া ভিসা নীতি প্রণয়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বাংলাদেশিরা।
দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি প্রার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন সনদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন ছাড়াও দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এই প্রক্রিয়ায় অনেক প্রবাসী হতাশ হয়ে পড়েছেন।
আরও
বাংলাদেশি স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি প্রতিরোধে তিন মাস আগে বারকোড ব্যবস্থা চালু করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ জানিয়েছেন, গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে প্রচেষ্টা চালানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং ভিসা খোলার সঠিক সময় অনিশ্চিত। তিনি মনে করাচ্ছেন, ভিসা সংকট শুধুমাত্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়, প্রবাসীদেরও নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
জনশক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। প্রবাসী সংগঠনগুলোর মতে, সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি।












