প্রবাস জীবনের শুরুতে অনেকেই নতুন পরিবেশ, চাকরির চাপ ও পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টের মধ্যে দিন কাটান। কেউ কেউ বছরের পর বছর পরিশ্রম করে সামান্য কিছু সঞ্চয় করতে পারেন। কিন্তু ভারতের কেরালার তরুণ শ্রীরাজ এমআর-এর ভাগ্য যেন অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাত্র চার মাস থাকতে, শ্রীরাজের ভাগ্য সাড়া দিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুবাইয়ে গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাব সহকারীর চাকরি শুরু করেন তিনি। বুধবার (২১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত দুবাই ডিউটি ফ্রি মিলেনিয়াম মিলিয়নিয়ারের লটারিতে শ্রীরাজ জিতেছেন ১০ লাখ দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
শ্রীরাজ এই টিকিটটি একা কেনেননি, সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী প্রদীপ। লটারি বিজয়ের অর্থ ভাগাভাগি করা হবে—শ্রীরাজ পাবেন ২৫ শতাংশ, বাকি ৭৫ শতাংশ পাবেন প্রদীপ। প্রদীপও দীর্ঘ এক দশকের নিয়মিত লটারির অংশগ্রহণের পর এবার ভাগ্য খুলেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না, পরে নিশ্চিত হয়ে আনন্দে চিৎকার করেছেন।
আরও
শ্রীরাজও আনন্দ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দুবাই আসলেই আমার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। দেশে থাকলে লটারিতে অংশগ্রহণ করতাম না, কিন্তু এখন এত দ্রুত জিতে যাওয়ার আশা ছিল না।”
এই ঘটনা প্রবাসীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। দৈনন্দিন কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে হঠাৎ ভাগ্য পরিবর্তন শুধু বিজয়ীর জীবনই বদলে দেয় না, বরং অন্য প্রবাসীদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন ও আশার আলো জাগায়। শ্রীরাজ ও প্রদীপ এখন এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে আলোচনা করছেন, তবে সহকর্মীরা মনে করছেন, এটি তাদের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
দুবাই ডিউটি ফ্রি মিলেনিয়াম মিলিয়নিয়ারের লটারি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়। তবে সবাই ভাগ্যবান হন না। সেই কারণে শ্রীরাজকে এখন অনেকেই সত্যিকারের ‘লাকি প্রবাসী’ হিসেবে অভিহিত করছেন।












