মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে শেষ মুহূর্তের জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া কঠোর আলটিমেটামের পরই এই সমঝোতা হয়। এই চুক্তির আওতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অভূতপূর্ব অনুমতি পেয়েছে ইরান ও ওমান। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচিত পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখের এই কৌশলগত প্রণালিতে এর আগে কখনোই টোল বা ফি আদায়ের নজির ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরান তাদের দেশের পুনর্গঠন কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার ভোরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে ইরানের ওপর পরিকল্পিত এক ‘বিধ্বংসী হামলা’ আগামী দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রধান শর্ত হিসেবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন। পাকিস্তানের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রস্তাব এবং ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও
এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তির রূপ দিতে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানী ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্যোগকে ‘বিচক্ষণ পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, এই যুদ্ধবিরতি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলেই তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দূরদর্শিতার প্রশংসা করে শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন, ইসলামাবাদের আসন্ন এই বৈঠক একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।









