মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী এবার বিদেশে থেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার এই নতুন সুযোগকে স্বাগত জানালেও প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীরা মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কারণ, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো প্রতিনিধিকে মনোনয়নে না রাখলেও বিএনপি থেকে অন্তত দুজন প্রবাসী নেতার মনোনয়ন প্রত্যাশা ছিল তাদের।
সোমবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে বিএনপি ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র অধ্যায় থেকে কয়েকজনকে প্রার্থী করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের কারও নাম তালিকায় না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সাংগঠনিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য বিএনপির ব্যাপক বিস্তার ও অবদান থাকলেও প্রার্থী তালিকায় তা প্রতিফলিত হয়নি।
মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব (হবিগঞ্জ–২) এবং সৌদি যুবদলের সভাপতি ও বিনিয়োগকারী আব্দুল মান্নান (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক)। স্থানীয় জনপ্রিয়তা, মাঠপর্যায়ের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ও প্রবাসী নেতাকর্মীদের বিশাল সমর্থন থাকার পরও তাদের কেউই মনোনয়ন পাননি—যা প্রবাসী নেতাদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
আরও
সৌদি আরব বিএনপি ও প্রবাসী সংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, আহমেদ আলী মুকিব ও আব্দুল মান্নান বহু বছর ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী কঠিন সময়ে পালিয়ে আসা শত শত নেতাকর্মীদের সহায়তা, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে প্রবাসী ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি বলে দাবি করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, প্রবাসীরা এবার প্রথমবারের মতো বিদেশে বসেই ভোট দেবেন—এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আরও সম্পৃক্ত করতে পারে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় সংসদে সরাসরি প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। এ কারণে বিএনপি হাইকমান্ডকে ভবিষ্যতে উপনির্বাচন বা সমজাতীয় ক্ষেত্রে প্রবাসী নেতাদের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।










