সুদানের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কও দেশটির সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে দারফুরে গণহত্যায় অভিযুক্ত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা।
চলমান সংঘাতের কারণে সুদানে মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, কেবল উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আরএসএফের নৃশংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অঞ্চলটি থেকে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতিকে ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএসএফের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কূটনীতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউরোপীয় ব্লকে আরএসএফ সদস্যদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ইউরোপে থাকা সম্ভাব্য সম্পদ জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, সুদানের সাধারণ মানুষের ওপর আরএসএফের ধারাবাহিক সহিংসতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত উদাহরণ।
আরও
অন্যদিকে, সুদানের সংঘাতকে বিশ্বের “সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। দোহায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা বিষয়ক দূত মাসাদ বুলোস তিন মাসের মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে তেহরানের বাড়তি সম্পৃক্ততা হুতি বিদ্রোহীদের জন্য নতুন সমুদ্র করিডোর তৈরি করতে পারে, যা লোহিত সাগর হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে বলছে, সুদান আবারও হামাস ও হিজবুল্লাহর জন্য অস্ত্র পরিবহনের রুটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে সুদানের গৃহযুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরো জটিল করে তুলেছে।










