ইরানের আকাশে তীব্র প্রভাব বিস্তার করতে এসেছে রাশিয়ার মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, শত্রুপক্ষের নজরদারি এবং একের পর এক ইসরায়েলি হামলার পরও এই নতুন বিমান উদ্বেগ ও উত্তেজনার নতুন অধ্যায় যোগ করছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি যুদ্ধবিমান নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে তেলআবিবকে পাঠানো একটি শক্তিশালী বার্তা।
ইরানি গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, শিরাজের আকাশে ইতোমধ্যেই রাশিয়ার চতুর্থ প্রজন্মের মিগ-২৯এস ফাইটার জেট দেখা গেছে। ইরানের সংসদের নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আবুলফজল জোহরেভান্দ জানিয়েছেন, এটি আপাতত স্বল্পমেয়াদী সমাধান; মূল শক্তি হিসেবে ধীরে ধীরে তেহরানে পৌঁছাবে রাশিয়ার সু-৩৫ যুদ্ধবিমান, চীনের এইচকিউ-৯ এবং রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অর্থাৎ, ইরান এবার আক্রমণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষাতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মিগ-২৯এস একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাইটার জেট, যা ২,৪০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতি অর্জন করতে সক্ষম। এটি স্টেল্থ নয় হলেও, রাডার এড়িয়ে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং আধুনিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এই যুদ্ধবিমান এখনও বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যে সম্মানিত।
আরও
মিগ-২৯এস এক জ্বালানিতে ৭০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে, অতিরিক্ত ফুয়েল ট্যাঙ্ক থাকলে দূরত্ব এক হাজার ৫০০ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ছয়টি হার্ডপয়েন্টের মাধ্যমে একাধিক অস্ত্র বহন করতে পারে। ইসরায়েলের একাধিক হামলার পর ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হলেও, নতুন এস-৪০০ এবং চীনের এইচকিউ-৯ মোতায়েন হলে আকাশে প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
বর্তমানে মিগ-২৯এস ইসরায়েলের জন্য গুরুতর হুমকি নয়, কিন্তু রাশিয়ার সু-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে এলে আকাশে আধিপত্যের ভারসাম্য বদলে যাবে। সু-৩৫ এর উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা এবং দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করার ক্ষমতা ইরানের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াবে, যা তেলআবিবের আক্রমণ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করবে।
আরও দেখুনঃ









