ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও মাঝে মাঝে গাজা থেকে প্রতিরোধের খবর আসে। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে দুটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, একটি রকেট প্রতিহত হলেও দ্বিতীয়টি জনবসতিহীন এলাকায় আঘাত হানে।
প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি গাজা থেকে প্রথম রকেট হামলা। নেটিভোট শহর এবং আশেপাশের কিছু সম্প্রদায়ে সাইরেন বাজে ওঠে, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে। বিশেষ বাহিনী দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। তবে আইডিএফ জানিয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপদ কেটে গেছে। ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জরুরি সেবা জানিয়েছে, হতাহত বা স্থাপনা ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গাজায় ইসরায়েলের টানা ৭০০ দিনের হামলায় প্রায় পুরো ভূখণ্ড ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজা সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যমতে, অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এই হামলাকে শুধু ধ্বংসযজ্ঞ হিসেবে নয়, বরং পদ্ধতিগত গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি নীতির প্রতিফলন হিসেবেও দেখানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজার শিশু এবং ১২ হাজার ৫০০ নারী।
আরও
হতাহতদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ২৪৮ সাংবাদিক, ১৩৯ সিভিল ডিফেন্স সদস্য এবং ১৭৩ পৌরকর্মী রয়েছেন। আহত হয়েছে আরও প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ। অনেকেই অঙ্গচ্ছেদ, পক্ষাঘাত বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। হামলায় ৩৮টি হাসপাতাল, ৮৩৩টি মসজিদ এবং ১৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। হাজার হাজার সরকারি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবু ইসরায়েল বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য কেবল হামাস সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনা। তাদের দাবি, হামাসকে ধ্বংস করলেই এই যুদ্ধ শেষ হবে।










