ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২২ মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। হামলা, বোমাবর্ষণ এবং হত্যা থামছে না, ফলে প্রতিদিন লাশের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষও রেহাই পাচ্ছে না।
সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনা প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে সেনাদের তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মসজিদ লক্ষ্য করে ধ্বংস ও ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারকদের হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে গাজার অনেক পাড়া-মহল্লায় উপাসনালয় হারিয়ে গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ২৩৩ জন ইমাম ও ধর্মপ্রচারক হত্যা করেছে এবং ৮২৮টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। এছাড়া আরও ১৬৭টি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় গাজার তিনটি চার্চও ধ্বংস হয়েছে এবং ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান নিহত হয়েছে।
আরও
গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল থাওয়াবতেহ জানিয়েছেন, মসজিদ, চার্চ ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা এবং প্রতিরোধের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ইসমাইল আল থাওয়াবতেহর মতে, শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে গাজার সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের শেকড়ের সম্পর্কও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিচয় ও সমষ্টিগত স্মৃতি ধ্বংসের এই প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









