সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিসওয়ায় অবস্থিত একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-ইখবারিয়া জানিয়েছে, বুধবার (২৭ আগস্ট) ইসরায়েলি বিমানগুলো ওই এলাকায় আঘাত হানে। এ সময় কিসওয়া গ্রামের বেশ কয়েকটি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে হামলা চালাতে দেখা গেছে।
আল জাজিরার কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, হামলার সময় ইসরায়েল চারটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এবং ডজনখানেক সেনা ও অনুসন্ধানী সরঞ্জাম নিয়ে ব্যারাকে নামে। তারা দুই ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে, যদিও কোনো সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি। এর মাত্র এক দিন আগে একই এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন সিরীয় সেনা নিহত হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল সিরিয়ার ভেতরে প্রভাব বিস্তার ও দখল প্রসারের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত।
আরও
আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ায় শতাধিক হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি তারা গোলান মালভূমির নিরস্ত্রীকৃত বাফার জোন দখল করে, যা ১৯৭৪ সালের সিরিয়া-ইসরায়েল বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করছে দামেস্ক। এর আগে সিরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইসরায়েল প্রায় ৬০ সেনা মোতায়েন করে লেবানন সীমান্তের কাছাকাছি একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখল করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুয়াইদা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এর পর ইসরায়েল দাবি করে, দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে রক্ষার অজুহাতে তারা সিরীয় সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং রাজধানী দামেস্ক পর্যন্ত বোমা বর্ষণ করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শায়েবানি একে স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের বিস্তারবাদী ও বিভাজনমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।






![]gfd](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/03/gfd.webp)




