মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসা বন্ধ রয়েছে। এতে করে ভিসা নবায়ন বা নতুন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রবাসীরা। মূলত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে ২০১২ সালে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয় আমিরাত সরকার। এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০২০ সালের শেষ দিকে সীমিত সময়ের জন্য ভিসা চালু হলেও বর্তমানে শ্রম ভিসা ইস্যু বন্ধ রয়েছে। কেবল দুবাই স্টেটের জন্য সীমিত আকারে স্কিল বা হাই প্রোফাইল ভিসা চালু থাকলেও তা মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ইউএই’র ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটির (আইসিপি) সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, আমিরাতে মোট ভিসা লঙ্ঘনকারীর মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তারেক রহমান বলেন, ভিসা খোলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আমিরাত সরকারের হাতে। তবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
আরও
স্থানীয় প্রবাসী নেতারা বলছেন, ভিসা বন্ধের কারণে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিক দিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। এতে সেবা প্রদানে সমস্যার পাশাপাশি দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে—অনেকে পরিবারের সদস্যকে কাছে আনতে পারছেন না।
প্রবাসীদের দাবি, অন্তত অভ্যন্তরীণ ট্রান্সফার ভিসা চালুর ব্যবস্থা করা হোক, যাতে মালিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা জটিলতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










