প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ওসমানি সাম্রাজ্যের পতনের পর যে আরব রাষ্ট্রগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য নয়—বরং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষায়। ইতিহাসবিদ উসামা মাকদিসির মতে, এই রাষ্ট্রগুলো ছিল একপ্রকার “আরব মুখোশ”, যার পেছনে ছিল ব্রিটিশ ও ফরাসি আধিপত্যের ছায়া। এ বিষয়ে সম্প্রতি মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মাকদিসি তুলে ধরেন, কিভাবে ১৯১৬ সালের সাইক্স-পিকো গোপন চুক্তি এবং ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণা আরবদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির সরাসরি লঙ্ঘন করে পশ্চিমাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দেয়। ব্রিটিশরা ওসমানিদের বিরুদ্ধে আরবদের সহায়তা করলেও, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি পরোক্ষ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে স্থানীয় শাসকদের আড়ালে পশ্চিমারা নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে আরব বিশ্বে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারের জন্য হাশেমি বংশকে ব্যবহার করা হয়। শরিফ হোসাইন ও তাঁর সন্তানদের পুতুলশাসক হিসেবে বসিয়ে ব্রিটিশরা একটি সাম্রাজ্যিক কাঠামো তৈরি করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইহুদি উপনিবেশ ও ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা। তুরস্কের বিপরীতে, আরব রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা ছিল কেবল মুখে মুখে, প্রকৃতপক্ষে নয়।
আরও
পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯৪৮ সালের নাকবার পরপরই কিছু সামরিক বিপ্লব আরব দুনিয়ায় নতুন আশার সঞ্চার করে। কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুনভাবে ‘আরব মুখোশ ২.০’ গড়ে তোলে—যা ছিল আগের চেয়েও জটিল ও গভীর। মার্কিন স্বার্থেই আজকের অনেক আরব শাসক গণমানুষের চাওয়া উপেক্ষা করে ইসরায়েলি দখলদারত্বকেও সমর্থন বা সহনীয় মনে করছেন।
শেষ পর্যন্ত, লেখক মনে করেন এই আরব মুখোশ কখনো জনগণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না, বরং উপনিবেশিক স্বার্থই রক্ষা করে। গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনে আজ যে প্রতিরোধ চলছে, তা প্রমাণ করে দেয়—এই মুখোশ চিরস্থায়ী নয়। সময়ই বলবে, এই আধিপত্যবাদী ছকের অবসান কতটা ঘনিয়ে এসেছে।











