মাত্র ১২ দিনের মাথায় থেমে গেলেও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিণতি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনও তীব্র, কারণ যুদ্ধ থামলেও ইরান থেমে থাকেনি। এবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। জোরালো প্রশ্ন উঠছে—গোপনে কি পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে তেহরান?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার এক মাস পার হলেও, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেও, ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে—গোয়েন্দা তথ্য সে কথা বলছে না। বরং মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান খুব দ্রুতই আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হয়তো কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবে তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়নি। এমনকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলার পর ইরান আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
আরও
মধ্যপ্রাচ্যে অতীতে প্রভাব বিস্তারে ইরান ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স’ কৌশলে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের ব্যবহার করলেও সরাসরি যুদ্ধে সে কৌশলের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আকাশ হামলাগুলো ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
ফলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান হয়তো উত্তর কোরিয়ার পথেই হাঁটছে—যেখানে ভয় দেখিয়ে টিকে থাকার একমাত্র উপায় পারমাণবিক অস্ত্র। অনেকেই মনে করছেন, তেহরান হয়তো গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে এবং শিগগিরই বিশ্বকে অবাক করে দিতে পারে এমন ঘোষণা দিয়ে: “আমরাও এখন একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ!”










