ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান মসজিদুল আকসা আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে। জেরুজালেম নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মসজিদ মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং মক্কা-মদিনার পর ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, মুসলিম উম্মাহর সম্মান ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক ঘোষণায় জানান, আল আকসা মসজিদসহ পশ্চিম তীর এখন থেকে ইসরায়েলের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তিসা বা’আভ উপলক্ষে এখন থেকে পশ্চিম দেয়াল এবং আল আকসা পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রতিবাদ সত্ত্বেও জেরুজালেমে ইসরায়েলের অবস্থান আরও দৃঢ় করা হবে।
একই দিন সকালে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সেখানে প্রার্থনায় অংশ নেন। যদিও ঐতিহাসিক এই মসজিদ এলাকায় ইহুদি প্রার্থনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তবু তার এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরব এটিকে ‘উসকানিমূলক ও পবিত্রতার অবমাননা’ আখ্যা দিয়ে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে।
আরও
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত এবং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ইতিমধ্যেই পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আল আকসাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উত্তেজনার সীমায় আটকে নেই। এটি এখন মুসলিম বিশ্বের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। ফলে, এই ইস্যুতে মুসলিম জাতিগুলোর একতা ও কূটনৈতিক ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।











