বিদেশে পড়াশোনা, কাজ কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভিসা পাওয়া এখন বাংলাদেশিদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে জমা পড়া অধিকাংশ ভিসা আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে অন-অ্যারাইভাল কিংবা ই-ভিসার সুবিধায় সহজেই ভ্রমণ করা যেত, এখন সেখানে আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ এবং অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে এই জটিলতা আরও বাড়তে পারে। ভারতের ভ্রমণ ভিসা গত বছরের আগস্ট থেকেই বন্ধ রয়েছে। থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা এবং ভিয়েতনামের মতো দেশে ভিসা পাওয়া এখন অত্যন্ত দুরূহ। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভিসাও অনেকটা সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।
ভ্রমণপ্রেমী ও ইউটিউবার নাদির নিবরাস জানান, তার বৈধ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাজিকিস্তান, মলদোভা ও বাহরাইনের মতো দেশের ই-ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী এবং পর্যটক, যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
আরও
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ থেকে বেড়ে চলা অবৈধ অভিবাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং ভুয়া নথিপত্র জমার প্রবণতাই এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিএফএস গ্লোবালসহ বিভিন্ন ভিসা সহায়তাকারী সংস্থা বলছে, বাংলাদেশিদের ভুয়া সনদপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিলের প্রবণতা বিদেশি দূতাবাসগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী গত ২ জুলাই এক বক্তব্যে বলেন, ভিসা প্রক্রিয়ায় জাল কাগজপত্র দাখিল বন্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে বৈধ ভ্রমণপ্রত্যাশীরাও ভিসা না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় পড়বে, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।









