সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা, যারা দেশটির অন্যতম বড় শ্রমশক্তি হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রবাসী রিয়েল এস্টেট, পর্যটন, সেবা খাতসহ বহু খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু, নবায়ন এবং কোম্পানি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একপ্রকার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ইউএই সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে হঠাৎ করে অনেক ভিসা বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে, যদিও অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এতে করে নতুন চাকরি পেয়েও অনেকে কোম্পানি বদলাতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৈধতার সংকটে পড়ছেন।
৫ আগস্ট বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হলেও, এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যায়নি। ফলে প্রবাসীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা মনে করছেন, সরকারের উচিত দ্রুত ও কৌশলগতভাবে আমিরাত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা।
আরও
এ সংকটের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। অনেক প্রবাসী তাদের পরিবারের কাছে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএই-এর মতো বড় শ্রমবাজারে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবন, ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রবাসীরা জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন, সরকার যেন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসে।











