আবাসন (ইকামা), ভিজিট ভিসা এবং নির্ভরশীলদের স্পন্সর ফি–সহ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ফি ও নীতিমালা পুনর্নির্ধারণ করেছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন সিদ্ধান্তে ইকামা নবায়ন, ভিজিট ভিসার নিয়ম, নির্ভরশীল ফি এবং নির্বাসন সংক্রান্ত বিধানে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন আইনে ইকামার মেয়াদ আর পাসপোর্টের মেয়াদের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে না। ফলে পাসপোর্টের মেয়াদ স্বল্প থাকলেও প্রবাসীরা ইকামা নবায়ন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর পাসপোর্টে কমপক্ষে ছয় মাস বৈধতা থাকা বাধ্যতামূলক। সংশোধিত নীতিমালায় সাধারণ আবাসিক ইকামা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর, কুয়েতি নারী ও সম্পত্তির মালিকদের বিদেশি সন্তানদের ইকামা ১০ বছর এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইকামা নবায়নে ফি দ্বিগুণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পৃথক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মী, বিদেশি ছাত্র এবং ধর্মযাজকদের জন্য ফি বছরে ২০ দিনার; বিনিয়োগকারী ও রিয়েল এস্টেট মালিকদের জন্য ৫০ দিনার এবং স্ব–স্পন্সর ইকামার (ধারা ২৪) ক্ষেত্রে নতুন করে বছরে ৫০০ দিনার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়েত সরকার সব ধরনের ভিজিট ভিসার ফি ১০ দিনার নির্ধারিত হয়েছে; ভিজিট ভিসার মেয়াদ তিন মাস, যা নবায়নের মাধ্যমে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এক বছরের জন্য অনুমোদিত, তবে প্রতিবার অবস্থানসীমা এক মাস।
আরও
পারিবারিক ভিজিট থেকে ইকামায় রূপান্তরের নিয়ম সহজতর করা হয়েছে। কিছু পেশাজীবী—যেমন শিক্ষক, নার্স, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ইমাম, ফার্মাসিস্ট ও সরকারি গবেষক—৮০০ দিনারের আয়সীমার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। তবে নির্ভরশীল ফিসহ পারিবারিক স্পন্সরশিপে নানা পরিবর্তন এসেছে। স্বামী–স্ত্রী ও সন্তানের জন্য ফি বছরে ২০ দিনার; বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ৪০ দিনার; স্ব–স্পন্সরদের পরিবারের সদস্যের জন্য ১০০ দিনার; আর পিতা–মাতা বা অন্যান্য নির্ভরশীলের ফি ২০০ দিনার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ দিনার করা হয়েছে।
কুয়েত সরকার নির্বাসন সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, আয়–উৎস না থাকা, নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া অন্যত্র কাজ করা, গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া বা জননিরাপত্তার কারণে মন্ত্রীর নির্দেশ—যে কোনো অবস্থায় ইকামা বৈধ থাকলেও প্রবাসীদের নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে।











