সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিলাসবহুল এলাকায় গড়ে ওঠা একটি যৌন ব্যবসা ও নারী নির্যাতন চক্রের মূল হোতা হিসেবে চার্লস মোসিগা নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে বিবিসির অনুসন্ধানী দল। ছদ্মবেশে কাজ করা এক প্রতিবেদকের কাছে মোসিগা স্বীকার করেন, তিনি বিপুল অর্থের বিনিময়ে নারী সরবরাহ করেন। গ্রাহকের চাহিদা পূরণে নারীরা ‘প্রায় সবকিছুই’ করতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বছরের পর বছর ধরে দুবাইয়ের তথাকথিত সেক্স পার্টি নিয়ে নানা গুজব ও আলোচনার মধ্যেই উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। উগান্ডার একাধিক তরুণী অভিযোগ করেছেন, তারা দুবাইয়ে গিয়ে সাধারণ চাকরির আশা করেছিলেন। কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যৌন ব্যবসায় জড়িয়ে ফেলা হয়। ‘মিয়া’ নামের এক তরুণী জানান, অমানবিক ও বিকৃত যৌন চাহিদায় বাধ্য করা হতো তাদের।
এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নারীর মৃত্যু নিয়েও রহস্য রয়েছে। দু’জন তরুণী সুউচ্চ ভবন থেকে পড়ে মারা যান। যদিও পুলিশ আত্মহত্যা বললেও নিহতদের পরিবার বিশ্বাস করে, ঘটনার সঠিক তদন্ত হয়নি। মৃতদের একজন মোনিক কারুঙ্গি, যিনি মোসিগার ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৫০ নারীর সঙ্গে থাকতেন। পরিবার জানায়, তিনি মূলত সুপার মার্কেটে কাজের জন্য দুবাই গিয়েছিলেন।
আরও
অভিযোগ রয়েছে, নারীদের ওপর মোসিগা ঋণের ফাঁদও চাপিয়ে দিতেন। মিয়া বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই তাকে কয়েক হাজার ডলারের দেনার কথা জানানো হয়, যা সময়মতো না দিলে দ্বিগুণ হয়ে যেত। মোনিকের ঋণও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অসহায় অবস্থায় কান্নাভেজা ভয়েস নোট পাঠিয়ে তিনি পরিবারের কাছে সহায়তা চাইতেন।
বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মোসিগা বহু ছদ্মনাম ব্যবহার করে চক্র পরিচালনা করতেন এবং ধনী গ্রাহকদের জন্য নারীদের সরবরাহ করতেন। মৃত্যুর পরও অনেক ভুক্তভোগীর পরিবার মরদেহ পায়নি। মোনিককে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা হয় দুবাইয়ে। তাঁর পরিবার বলছে, শুধু শোক নয়, আতঙ্কও এখন তাদের সঙ্গী—যেন এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আর কোনো নারীকে পোহাতে না হয়।












