বাংলাদেশের রাজনীতি আর প্রবাসী জনশক্তি ব্যবসার অন্ধকার অধ্যায় একসূত্রে গাঁথা হলো এক নামে— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।ওয়ান-ইলেভেনের অন্ধকার সময়ে, যখন তারেক রহমানের রাজনীতি ভাঙতে উঠেপড়ে লেগেছিলো একটি শক্তিশালী মহল—তখন সবচেয়ে আলোচনায় আসেন এই মাসুদ। অভিযোগ আছে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক কমর ভেঙে দেওয়ার নেপথ্যে সরাসরি ভূমিকা রাখেন তিনি।
কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস—আজ সেই মাসুদই নাম উঠলো ভয়ঙ্কর এক মানিলন্ডারিং সিন্ডিকেটের আসামির তালিকায়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির নামে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা পাচার করে আসছিলো। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
আরও
ইতোমধ্যেই প্রধান হোতা রুহুল আমিন স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে সিআইডি। আর সেই তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ।
মামলায় সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগী রুহুল আমিন স্বপন, নিজামুদ্দিন হাজারী, সাবেক সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ, আবুল বাশার ও মোবারক উল্লাহ শিমুলসহ মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজনীতিতে একসময় প্রভাবশালী, সেনা জীবনে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু—আজ সেই মাসুদই জনশক্তি রফতানি চক্রের দুর্নীতির দায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে।
ওয়ান-ইলেভেনে তারেক রহমানের কমর ভাঙা থেকে শুরু করে—এখন নিজেই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির তালিকায়। ভাগ্যের এই পাল্টে যাওয়া কাহিনি যেনো সময়ের নির্মম প্রতিশোধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।











