কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য জরুরি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার (২৭ আগস্ট) কুয়েতস্থ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) মোহাম্মদ আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বকেয়া বেতন বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে কোনো বিরোধ দেখা দিলে শ্রম আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকা বা ধর্মঘট করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যা চাকরি হারানো, ইকামা বাতিল কিংবা “Absconding Case”-এর কারণ হতে পারে। একইভাবে, ইকামায় উল্লিখিত কর্মস্থলের বাইরে অন্যত্র কাজ করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এতে গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের ঝুঁকি রয়েছে।
কর্মীদের আরও সতর্ক করা হয়েছে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়, চুক্তিপত্র যাচাই না করে চাকরিতে যোগদান এবং আকামা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন থেকে। উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা কেনা-বেচা উভয়ই অপরাধ এবং সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ লেনদেন বেআইনি। চাকরিতে যোগদানের আগে অবশ্যই চুক্তিপত্রে বেতন, ভাতা ও মেয়াদ যাচাই করে কপি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আকামা নবায়ন, ট্রান্সফার বা ছুটির জন্য অর্থ লেনদেন আইনসম্মত নয় বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা না করে সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে লিখিত প্রমাণ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি, রাস্তা থেকে মাল সংগ্রহ, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, আর্থিক জালিয়াতি কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধ থেকে বিরত থাকতে কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে বহু বাংলাদেশি কারাগারে আটক আছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব নির্দেশনা মেনে চললে প্রবাসীরা যেমন আইনি জটিলতা থেকে নিরাপদ থাকবেন, তেমনি কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাবমূর্তিও অক্ষুণ্ণ থাকবে।










