আর্থিক সংকট ও পারিবারিক কলহে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। শুধু গত এক বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ৩২ জন বাংলাদেশি জীবন দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আবুধাবির বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত প্রবাসী শ্রমিকদের পারিবারিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিদেশযাত্রায় উচ্চ সুদের ঋণ এড়িয়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ঋণ সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
বিদেশে ভালো আয়ের স্বপ্নে অনেকেই উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধের চাপ ও পরিবারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেকের জীবন হয়ে উঠছে অসহনীয়। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে প্রতারণা, সম্পর্কে টানাপড়েন, পারিবারিক বিচ্ছেদ ও মানসিক চাপ—যা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ জানান, ঋণ করে বিদেশে আসা প্রবাসীরা তা শোধ করতে না পারলে পরিবারের ওপর চাপ পড়ে, আর সেই চাপই পরে ফিরে আসে প্রবাসীর কাছে। এই বোঝা অনেকের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয় না। দূতাবাসের শ্রম উইং জানিয়েছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বীমা অনুযায়ী মৃত্যুজনিত সুবিধা ১০ লাখ টাকা হলেও, বীমার ঝুঁকি গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে আত্মহত্যা করলে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না।
আরও
দূতাবাস কাউন্সেলর লুৎফুন নাহার নাজীম জানিয়েছেন, প্রথমবার প্রবাসী কল্যাণ কার্ডধারী শ্রমিকরা বীমার আওতায় থাকলেও বর্তমানে যারা বিদেশে কর্মরত, তারা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। নতুন প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানো হবে।
রাষ্ট্রদূত মনে করেন, উচ্চ সুদের ঋণ থেকে বিরত থাকা আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসী ঋণ সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে এলেই আর্থিক সমৃদ্ধি আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংকটকালে পারিবারিক সহযোগিতা ও প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়লে মনোবল শক্ত হবে এবং আত্মহননের প্রবণতা হ্রাস পাবে।












