উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইঞ্জিনে গুরুতর ত্রুটির আশঙ্কায় ভারতের গোয়া থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমান জরুরি অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার সকালে ২২৯ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে থাকা অবস্থায় এই আতঙ্ক ছড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত পাইলটের তাৎক্ষণিক ও দক্ষ সিদ্ধান্তে গোয়ার মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বিমানের কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্য হতাহত হননি।

বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে ইন্ডিগোর ‘৬ই ২১০২’ ফ্লাইটটি গোয়া থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু আকাশে ওড়ার পরপরই বিমানের একটি ইঞ্জিনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেয় বলে পাইলট সন্দেহ করেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। এরপর প্রায় ৩৪ মিনিট আকাশে থাকার পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইটটি পুনরায় গোয়া বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
আরও
জরুরি অবতরণের বার্তা পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য সব ধরনের বিপদ মোকাবিলায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। বিমানটি মাটি ছোঁয়ার আগেই রানওয়েতে প্রস্তুত রাখা হয় জরুরি সাড়াদানকারী দলকে। তবে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। ইঞ্জিনে ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছিল এবং কেন ইঞ্জিন বিকলের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে কারিগরি তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা।
সাম্প্রতিক সময়ে উড়োজাহাজ চলাচলে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিভ্রাটের ঘটনা যাত্রীসাধারণের মনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আকাশে ওড়ার পর ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে তা মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সময়োচিত ও সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।











