মায়ের চেহারা সুন্দর নয়—কেবল এই যুক্তিতে লজ্জায় নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকেই দাওয়াত দেননি এক তরুণ। এমন অমানবিক ও অকৃতজ্ঞ আচরণের কারণে ওই কর্মীকে সরাসরি চাকরিচ্যুত করেছেন চীনের এক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা ওই কর্মীর কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মালিকের এমন সাহসী ও মানবিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাত দিয়ে জানা যায়, হেনান কুয়াংশান ক্রেন কোম্পানির গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত ২১ জুলাই এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চুই পেইজুন। তিনি জানান, মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা অনেক কষ্ট করে ওই কর্মীকে বড় করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের সময় মায়ের সাদামাটা উপস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ মনে করে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর সৌজন্যটুকুও দেখাননি তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে চুই পেইজুন ওই কর্মীকে সরাসরি ডেকে কৈফিয়ত তলব করেন এবং মায়ের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের দায়ে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেন।
চাকরি হারানোর পর অন্য কোথাও কাজের সুযোগ না পেয়ে ওই কর্মী চুই পেইজুনের কার্যালয়ে এসে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা এই মালিক তাঁকে আর ফিরিয়ে নেননি। উল্টো এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি ওই কর্মীর অবসরপ্রাপ্ত মাকে প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিক বিভাগে ছেলের সমান বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
আরও
চীনে কর্মীদের প্রতি উদারতার জন্য চুই পেইজুনের আগে থেকেই ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই কর্মীদের আর্থিক ঋণ ও অন্যান্য বোঝা কমাতে ১৮০ মিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৫৪ কোটি রুপি বোনাস দিয়ে তিনি ‘চীনের সবচেয়ে দয়ালু বস’ খেতাব অর্জন করেন। এ ছাড়া গত এক যুগে দরিদ্র পরিবারের প্রায় পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ৩৫ মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি শিক্ষাবৃত্তিও প্রদান করেছেন এই মানবদরদি ব্যবসায়ী।










