Opens in a new tab
সর্বশেষ

শান্তি আলোচনায় বাগবিতণ্ডা, হাতাহাতি লেগে যাচ্ছিল আরাগচি ও উইটকফের

Araghchi Witkoff 69dc747ca9618Web Popup (3)

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখেনি। কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতেই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার এই ম্যারাথন আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একপর্যায়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করতে হয়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে করমর্দন ও চা-চক্রের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক শুরু হয়েছিল। তবে সেই শান্ত পরিবেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির আলোচনা দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা চিৎকারে রূপ নেয়। তুর্কি সাংবাদিক সেতিন সেতিন এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাগচি ও উইটকফের মধ্যে চরম বাদানুবাদ একপর্যায়ে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। এ সময় মার্কিন দূতের উদ্দেশে আরাগচি কড়া ভাষায় বলেন, ‘ইরানকে কখনো হুমকি দেবেন না।’

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইসলামাবাদ ছাড়েন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করে তিনি জানান, কোনো চুক্তিতেই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন শর্তগুলো মানতে ইরানের অনীহাই এই ব্যর্থতার মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভ্যান্স আরও দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে এখনো কোনো ‘দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ আদায় করা সম্ভব হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে। এগুলো হলো—হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ এবং তেহরানের আটকে থাকা প্রায় ২৭০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করা। যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একটি বৃহত্তর ও চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ওই নৌপথের বর্তমান পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup