ইরান সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি প্রথমবারের মতো ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতাও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অভিশংসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করতে ছাড়েননি।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালার্ড পিপল (এনএএসিপি) তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রেসিডেন্টকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরানো উচিত। এনএএসিপির সভাপতি ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য, অসুস্থ ও ভারসাম্যহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনো ব্যক্তি যখন সত্য ও স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করেন, তখন তা পুরো বিশ্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি আবারও সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ। তিনি মনে করেন, এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পরিস্থিতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই হুমকি এখনো বহাল রেখেছেন। মন্ত্রিসভা বা কংগ্রেস—যেভাবেই হোক, দেশ ও বিশ্বের কল্যাণ নিশ্চিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আরও
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী হুমকির কারণে বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও তাঁদের সেই অনড় অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ইরানে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করলেও ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তিনি এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্প যে পিছু হটেছেন, তাতেই তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট মূলত নিজের অযৌক্তিক দম্ভ থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছিলেন।









