ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, উভয় পক্ষই এই সমঝোতাকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সাফল্যের কারণেই এই কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের বক্তব্য হলো—যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত নিজেদের লক্ষ্যগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সুসংহত করতেই তারা এই চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই ধারণা করেছিলেন যে এই সংঘাত চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তাঁর দাবি, মাত্র ৩৮ দিনের এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলো সফলভাবে অর্জন করেছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ক্যারোলিন লেভিট তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাফল্য ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই সাঁড়াশি চাপের ফলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর দল আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ পেয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর উদ্যোগের ফলেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন লেভিট।
আরও
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবির বিপরীতে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের প্রায় সব লক্ষ্য এরই মধ্যে অর্জিত হয়েছে। সামরিক ময়দানে পাওয়া সেই সাফল্যকে এবার রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতেই তারা দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিতেই তেহরানের প্রতিনিধিদল আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।












