ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আমিরাতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালায়, তবে পুরো আমিরাতকে তছনছ করে দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ত্রিমুখী এই সংঘাত ইতিমধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেলেও চরম উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি স্থল হামলার পরিকল্পনা করছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের প্রবল আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে খার্গ দ্বীপ, যেখান থেকে মূলত ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করা হয়। তাঁদের দাবি, আমিরাত কেবল মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং তারা নিজস্ব আকাশশক্তি দিয়েও ওয়াশিংটনকে সরাসরি সহায়তা করছে। এ ছাড়া ওমানে ইসরায়েলি হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর পেছনেও আমিরাতের ইন্ধন রয়েছে বলে তেহরানের গোয়েন্দারা মনে করেন। নিজস্ব ও রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ইরান মনে করছে, আমিরাত থেকে যেকোনো সময় এই স্থল হামলা শুরু হতে পারে।
আরও
সাক্ষাৎকারে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আরও স্পষ্ট করেছেন, এর আগে তাঁরা কেবল আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন বা ইসরায়েলি স্থাপনায় হামলা সীমাবদ্ধ রাখলেও স্থল অভিযান শুরু হলে আমিরাতকে সরাসরি ‘শত্রু’ রাষ্ট্র হিসেবেই গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে তেহরানের পাল্টা হামলা শুধু সামরিক বা গোয়েন্দা দপ্তরেই আটকে থাকবে না, বরং আমিরাত সরকারের মালিকানাধীন সব গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতেও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা নিশ্চিত করেছেন।









