মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে রাশিয়া—আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতের মাত্রা নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই গোপন সহায়তার খবরের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত আছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রকাশ্যে বা গোপনে এ ধরনের কোনো সহায়তাই কাম্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্ত হাতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
এর আগে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাসহ অন্তত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই তেহরানকে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে মস্কো। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরানকে লক্ষ্য করে যখন যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই রাশিয়া প্রথমবারের মতো তেহরানকে এমন তাৎপর্যপূর্ণ গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবরটি সামনে নিয়ে আসে।
আরও
এদিকে গত শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রুশ সরকার বর্তমানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপে যুক্ত রয়েছে। সেদিনের ব্রিফিংয়ে ইরান প্রসঙ্গে এটিই ছিল তাঁর একমাত্র মন্তব্য; তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি। অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সূত্রমতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি দাবি করেছেন, এই সংকটময় মুহূর্তে রাশিয়া ও চীন রাজনৈতিকসহ অন্যান্য সব উপায়েই তাঁদের সহায়তা করে যাচ্ছে।











