যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হায়দারি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তাঁর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুসলিম বিশ্বকে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ আল-হায়দারি অভিযোগ করেছেন, চলমান এই সামরিক আগ্রাসন কেবল একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি ইরানের সুপ্রাচীন সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি মুসলমানদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। একই সঙ্গে ইহুদি ও আমেরিকানদের ‘অহংকার’ এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরও
শিয়া ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, আল-হায়দারির এই জিহাদের ডাক মূলত ‘আত্মরক্ষামূলক’, আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়া মতাদর্শে যুদ্ধ বা জিহাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা কেবল একজন ‘মারজা আল-তাকলিদ’ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতেই ন্যস্ত থাকে।
এর আগে ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থানের সময় ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানিও একইভাবে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ফতোয়ার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ইরাকে শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানপন্থী বেশিরভাগ শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেই তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মান্য করে থাকে।











