নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কানো রাজ্যে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রকাশ্যে খাবার খাওয়ার অপরাধে ৯ জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় ইসলামিক পুলিশ। বুধবার এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। কানো রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি ইসলামি শরিয়া আইনও কার্যকর রয়েছে, যার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হিসবাহ নামে পরিচিত স্থানীয় এই ইসলামিক পুলিশ প্রতিবছরই রমজান মাসে রোজার পবিত্রতা রক্ষায় বিশেষ অভিযান চালায়। মুসলমানরা যথাযথভাবে রোজার সময়সূচি মেনে চলছেন কি না এবং প্রকাশ্যে পানাহার থেকে বিরত আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বাজারগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। তবে কানো শহরের যেসব এলাকায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বসবাস বেশি, সেখানে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও খাবারের দোকান স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকে।

আরও
হিসবাহর ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল মুজাহিদ আমিনুদ্দিন সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। আটকের পর তাঁরা দাবি করেছিলেন যে রমজান মাস শুরু হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। এ বিষয়ে মুজাহিদ আমিনুদ্দিন বলেন, ‘আমরা তাঁদের আটক করে হেফাজতে নিয়েছি। এখন তাঁদের রোজার গুরুত্ব, নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম, কোরআন তিলাওয়াত এবং একজন আদর্শ মুসলিম হওয়ার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে।’
আটক এই ৯ জনকে কবে নাগাদ মুক্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অতীতের এ ধরনের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে, যাতে মুক্তির পর তাঁরা পুরো রমজান মাস নিয়মিত রোজা রাখেন—সেটি নিশ্চিত করা যায়। উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ১২টি রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে শরিয়া আইন চালু করা হয়েছিল।










