মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি সফর করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এ সফর দুই দেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন অবস্থান গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য মিত্র খুঁজছেন। বিশেষ করে ইয়েমেন, আফ্রিকা ও গাজা পরিস্থিতির কারণে সৌদি পররাষ্ট্রনীতি আবার সক্রিয় হয়েছে।
২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি নেতৃত্ব আঞ্চলিক রাজনীতিতে কিছুটা নীরব ছিল। সে সময় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে মনোযোগ দেন যুবরাজ। তবে এখন আবার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে রিয়াদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হতে চায় এবং তরুণ জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে নতুন উন্নয়ন কৌশল নিয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদার প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
আরও
এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গাজা সংকট, আফ্রিকার স্থিতিশীলতা এবং ইয়েমেন পরিস্থিতিতে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকা দুই দেশকে কাছাকাছি এনেছে। এছাড়া সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য সামরিক জোটে তুরস্ক যুক্ত হতে পারে, এমন আলোচনা নতুন শক্তি-অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তুরস্কের জন্যও এটি কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়। দেশটি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। এরদোয়ানের সাম্প্রতিক সৌদি সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, গাজায় শান্তি, সুদানের স্থিতিশীলতা ও সিরিয়া ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতায় সৌদি আরব ও তুরস্কের এ ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই অংশীদারত্ব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই










