ইসরায়েল বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর হর্ন অব আফ্রিকায় নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সমর্থন জোরদার এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্ব বিস্তারের লক্ষ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে সোমালিয়া। চুক্তিটি এমন এক সময় হলো, যখন দেশটি কয়েক সপ্তাহ আগেই কাতারের সঙ্গেও একই ধরনের প্রতিরক্ষা সমঝোতায় পৌঁছায়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রিয়াদে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মুআল্লিম ফিকি এবং সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তির উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতার কাঠামো শক্তিশালী করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথ কাজের পরিসর বাড়ানো। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চুক্তির কথা নিশ্চিত করলেও দুই পক্ষই শর্তাবলি বা কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
এর আগে গত মাসে কাতারের সঙ্গে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, যেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানানো হয়েছিল। কাতার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করতেই ওই চুক্তি করা হয়।
আরও
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সোমালিয়া অভিযোগ তোলে—সোমালিল্যান্ডে একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় ব্যবহার হতে পারে। এ বিষয়ে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপন “কখনোই অনুমোদন” দেওয়া হবে না এবং এমন উদ্যোগ হলে তা প্রতিরোধ করা হবে। অন্যদিকে, জানুয়ারিতে সোমালিল্যান্ডের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে জানান, ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও শর্ত চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে আঞ্চলিক মেরুকরণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভূমিকা নিয়েও উত্তাপ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে সোমালিয়া ইউএইয়ের সঙ্গে বন্দর পরিচালনা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি বাতিল করেছে—মোগাদিশুর অভিযোগ, ইউএইয়ের কিছু কর্মকাণ্ড সোমালিয়ার জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউএই সোমালিল্যান্ড ইস্যুতে ইসরায়েলের স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় প্রভাব রেখেছে—এ দাবিকে ঘিরে সৌদি-ইউএই সম্পর্কেও টানাপোড়েনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা












