সর্বশেষ

গাজায় ৭০ হাজার মৃত্যুর হিসাব মেনে নিল ইসরাইল

ImageCity ads Investment (1)

দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালানোর পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে নিহত মানুষের সংখ্যার বিষয়ে ফিলিস্তিনি হিসাব কার্যত মেনে নিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দেশটির সাংবাদিকদের জানান, গাজায় যুদ্ধে নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার বলে তারা গ্রহণ করছে।

এই সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাবের কাছাকাছি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ৪৮৮ জন নিহত হয়েছেন। যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

Image 51688

এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের জাতীয় কমিটির মতে, এই সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় অন্তত ৪৪০ জন অনাহারে মারা গেছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল বারবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেয়া হতাহতের হিসাব অস্বীকার বা খাটো করে দেখিয়েছে। কখনও কখনও তারা নিজেরাও নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে, পরে আবার সেই সংখ্যা পরিবর্তন করেছে। ইসরাইলের অভিযোগ ছিল, ফিলিস্তিনিরা বিশেষ করে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।

Untitled

তবে এবার প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবকে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকার করা হলো। যদিও ওই কর্মকর্তা এই বিষয়টি উল্লেখ করেননি যে নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক মানুষ, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি। একই সঙ্গে তিনি অনাহারে মৃত্যু বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজারো মানুষের কথাও স্বীকার করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরাইলের দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত ধারা। গাজায় কিংবা তার বাইরেও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় প্রথমে ইসরাইল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, প্রমাণ সামনে আসার পর ধীরে ধীরে তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। গাজার মৃত্যুর সংখ্যা মেনে নেওয়াও সেই একই অস্বীকার ও পরে অনিচ্ছাকৃত স্বীকৃতির ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।

এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে চলমান আলোচনায়।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup