পারস্য উপসাগর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও উত্তেজনার মাঝে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের সামরিক অভিযান শুরু করা হবে একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’। তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্ক মনে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে তা পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করবে। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক শক্তিশালী নৌবহর ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করছে, তখন আঞ্চলিক সহযোগিতাই শান্তি ফেরানোর একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, আবার যুদ্ধ শুরু করা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল।
ফিদান আরও জানান, ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তাই শক্তি প্রদর্শনের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগটি কাজে লাগানো উচিত বলে মনে করেন এই তুর্কি শীর্ষ কূটনীতিক।
আরও
ওয়াশিংটনকে কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে হাকান ফিদান বলেন, ইরানের সঙ্গে সব বিরোধ একসঙ্গে মেটানোর চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। তার মতে, প্রথমে পারমাণবিক ইস্যু দিয়ে সমাধান শুরু করে ধাপে ধাপে অন্য বিষয়গুলোতে যাওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সব দাবি একসঙ্গে চাপিয়ে দিলে তা ইরানের নেতৃত্বের কাছে অপমানজনক মনে হতে পারে এবং তা মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এতে করে আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থায় ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো জরুরি।
ফিদান মনে করেন, মতাদর্শ বা ধর্মীয় পার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যেই আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব। ইরান বা প্রতিবেশী দেশগুলোর কেউ কোথাও চলে যাচ্ছে না, তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমেই এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজতে হবে।












