ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি অভিযোগ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লার কাছে আল-রাইয়ান বিমানঘাঁটিতে একটি ‘গোপন কারাগার’ পরিচালনা করছে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিস্ফোরক ও বুবি ট্র্যাপ–সংশ্লিষ্ট উপকরণও পাওয়া গেছে।
গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের তৎপরতা ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত জোটের ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, ইউএই-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে ইউএই এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হাদরামাউতের গভর্নরের বক্তব্য “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” এবং বিভ্রান্তিকর। ইউএই দাবি করে, যে স্থাপনাগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলো মূলত সামরিক আবাসন, অপারেশন কক্ষ ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র—যার মধ্যে কিছু ভূগর্ভস্থ কাঠামোও থাকতে পারে; এগুলোকে ‘গোপন কারাগার’ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
আরও
এদিকে সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও চাপে পড়ছে। আইওএম-এর ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে—যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, এই বাস্তুচ্যুতি ত্রাণ-কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রিয়াদে ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেনবিষয়ক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।











