লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগার থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, তিন মিটার গভীর ওই অমানবিক আটককেন্দ্রে অনেকেই দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন। রোববার কুফরার একাধিক সূত্র রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, কারাগারটি একটি মানবপাচারকারী পরিচালনা করছিলেন। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অভিযানকালে একাধিক ভূগর্ভস্থ কক্ষের সন্ধান মেলে, যেখানে ভয়াবহ পরিবেশে অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া সহ সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন; তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে।
কুফরা শহরটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মানবপাচারের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায় ইউরোপমুখী অভিবাসীরা মরুভূমি ও সমুদ্রপথে যাওয়ার পথে লিবিয়ায় প্রবেশ করছেন এবং প্রায়ই পাচার, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
আরও
সম্প্রতি পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। জীবিত উদ্ধার প্রায় ১০ জনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
এর আগেও কুফরা এলাকায় বড় ধরনের গণকবরের সন্ধান মিলেছিল। গত বছর সেখানে পাওয়া ৫৫টি গণকবর থেকে ৩৯ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুদানে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর কয়েক দশক হাজার সুদানি শরণার্থীও কুফরায় আশ্রয় নিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।










