যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কাতার। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এই সতর্কবার্তা দেয় দোহা।
মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও মারাত্মক হতে পারে। তিনি বলেন, কাতার চায় যতটা সম্ভব এই ধরনের সংঘাত ও বিপর্যয় এড়িয়ে চলতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পেতে।
এর আগে গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। ওই নজিরবিহীন ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে কাতার, যা দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
আরও
এদিকে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দমনে অভিযান বন্ধ না হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে কাতার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে বলেছে, এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে একটি কূটনৈতিক সমাধান বের করার চেষ্টা করছে, যাতে অঞ্চলটিকে আরেকটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে না দেওয়া হয়।
সূত্র: এএফপি











