ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান সরকার বর্তমানে ‘মহা বিপদের’ মুখে রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তিনি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানের একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীরা কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনাতীত ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর হামলা’ চালাতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানো নয়; বরং এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, যা ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হবে।
ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ ও কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়। বিক্ষোভ প্রশমনে সরকার প্রতি পরিবারকে মাসিক সীমিত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলেও আন্দোলন থামেনি।
আরও
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু নিরাপত্তা সদস্যও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেন এবং জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই পিছু হটবে না।











