শান্তিপূর্ণ অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আল-খাসাহ এলাকার একটি সামরিক ক্যাম্পে চালানো সাতটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এসটিসির স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সমর্থিত রিয়াদ বাহিনী গত ডিসেম্বর মাসে এসটিসির দখলে যাওয়া অঞ্চল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ অভিযান শুরু করে। হাধরামাউত প্রদেশের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এই পদক্ষেপকে ‘শান্তিপূর্ণ অপারেশন’ হিসেবে ঘোষণা করলেও, ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় বোমা বর্ষণ শুরু হয়। এসটিসির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রতিনিধি আমর আল-বিদ এই হামলাকে বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, সৌদি আরব শান্তির কথা বললেও বাস্তবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল হাধরামাউতের গভর্নরকে পূর্ণ সামরিক ক্ষমতা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এই সহিংসতার জন্য সরাসরি এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদিকে দায়ী করেন। তার দাবি, জুবাইদি একতরফাভাবে হাধরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সামরিক হামলা চালিয়েছেন এবং শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা সৌদি প্রতিনিধিদের এডেন বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দিয়েছেন।
আরও
এই ঘটনার পর ইয়েমেন পরিস্থিতিতে নতুন নাটকীয় মোড় নেয়। সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি আমিরাতি জাহাজে সৌদি বিমান হামলার পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। রিয়াদ অভিযোগ তোলে, আমিরাত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধানের অনুরোধে আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এই প্রকাশ্য মতবিরোধ ইয়েমেন যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ বিভাজন, আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ইয়েমেনকে নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও দ্রুত উদ্যোগ ছাড়া দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।











