অধিকৃত পশ্চিম তীরে নামাজরত এক ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি এক রিজার্ভ সেনার এটিভি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভাইরাল হওয়া ওই ফুটেজে দেখা যায়, সিজদায় থাকা ব্যক্তিকে সিভিল পোশাকে থাকা সেনাটি বেপরোয়াভাবে ধাক্কা দেন। ধাক্কার পর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সেনা তাকে চিৎকার করে স্থান ত্যাগের আদেশ দেন।

আহত ব্যক্তির বাবা মাজিদি আবু মোখো জানান, তার ছেলে শুধু ধাক্কা খেয়েই নয়, বরং হামলাকারী সেনা চোখে পিপার স্প্রেও ছুঁড়ে মারেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন, তবে দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ঘটনার পর আইডিএফ অভিযুক্ত সেনাকে পাঁচ দিনের জন্য গৃহবন্দী ও সাময়িকভাবে দায়িত্বমুক্ত করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সেনা একজন উগ্র বসতি স্থাপনকারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ চৌকি স্থাপন করে গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
আরও
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালটি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দিক থেকে সবচেয়ে সহিংস বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর এমন নির্যাতন ও ভয়াবহ হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই সেনার বিরুদ্ধে আগেও গুলিবর্ষণসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আইডিএফ।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে। ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় শুধু গাজাতেই এখন পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং পশ্চিম তীর ও গাজায় সহিংসতা আরও বেড়েই চলেছে।
বিশ্বনেতারা এ ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।












