বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থা, পাইলট, কেবিন ও গ্রাউন্ড ক্রুরা যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করে। যাত্রীদের চোখে অনেক নিয়ম ঝামেলাপূর্ণ মনে হলেও, প্রতিটি নির্দেশই মূলত যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। তেমনই একটি বহুল আলোচিত নিয়ম হলো—ফ্লাইট চলাকালে মোবাইল ফোনে ‘এয়ারপ্লেন মোড’ চালু রাখা।
দশকের পর দশক ধরে ধারণা রয়েছে, মোবাইল সিগনাল বিমানের যন্ত্রপাতিতে হস্তক্ষেপ ঘটাতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই ঝুঁকি এখন অনেক কম হলেও পুরনো বিমানে এর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। প্রযুক্তি সাইট SlashGear জানায়, একটি বিমান অসংখ্য সেন্সর ও জটিল সিস্টেমের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যেখানে অতি সামান্য বিভ্রাটও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মিনেসোটা পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট র্যান্ডল কোরফম্যান সিবিএস নিউজকে জানান, ফোনে এয়ারপ্লেন মোড না থাকলে পাইলট বা ক্রুর হেডসেটে ‘বাজিং’ ধরনের শব্দ সৃষ্টি হতে পারে। ব্যস্ত ককপিটে এই শব্দ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা শোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও
বিশেষজ্ঞ ড্যান বাব ব্যাখ্যা করেন, ফোনের রেডিও সিগনাল বিমানের রেডিও অল্টিমিটার যন্ত্রে হস্তক্ষেপ ঘটানোর আশঙ্কা বেশি। এই অল্টিমিটার ভূমির সঙ্গে দূরত্ব মাপার মাধ্যমে ল্যান্ডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক উচ্চতা জানায়। প্লেন যত নিচে নামে, এই যন্ত্রের নির্ভুলতা তত বেশি প্রয়োজন হয়। ঠিক সেই সময়েই ফোনগুলো সেল টাওয়ারের কাছে চলে আসায় সিগনাল বৃদ্ধি পেয়ে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি করে।
যদিও ২০২৩ সালে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপে ফ্লাইটে ৫জি ব্যবহারের অনুমতি দেয়, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন—ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে ৫জি কম শক্তি ও ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করায় ঝুঁকি কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে আছে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নির্দেশনায় এখনো ফ্লাইট চলাকালে মোবাইলে ‘এয়ারপ্লেন মোড’ চালু রাখার নিয়ম বহাল রয়েছে।











