থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান উত্তেজনা তৃতীয় দিনে পৌঁছেছে। গত দুই দিনের সংঘাতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও কয়েক ডজন মানুষ। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় উভয় দেশই সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি উভয় দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করবেন। এর আগে গত জুলাইয়ের পাঁচ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত। যদিও এবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অতীতে ভারত–পাকিস্তান, ইরান–ইসরায়েলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন, এবং তার মতে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাতও একটি ফোন কলেই থামানো সম্ভব। তবে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় রাজি করানোর জন্য শুল্কনীতি বা চাপ প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না; এমনটি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আরও
গত অক্টোবর ট্রাম্পের উপস্থিতিতে দুই দেশ সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে কয়েকটি পদক্ষেপে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু গত মাসে সীমান্তে পাতা একটি মাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা গুরুতর আহত হলে থাইল্যান্ড সেই সমঝোতা থেকে সরে আসে। থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে যে মাইনটি কম্বোডিয়া নতুন করে বসিয়েছে, যদিও কম্বোডিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চলতি সপ্তাহে সংঘাত শুরুর পর কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের হামলায় অন্তত ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। অপরদিকে, থাই সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের চারজন সেনা নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, যদিও পরিস্থিতি এখনও অস্থির।












