ভারত ও ওমানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী সপ্তাহে ওমান সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য এই উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে ওমান শুধু ভারতের প্রাচীনতম কৌশলগত অংশীদারই নয়, বরং অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক অংশীদারও। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ সফর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে।
সফরটি হচ্ছে প্রায় দুই বছর পর, যখন বর্তমান ওমান সুলতান ভারতের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন। এবার মোদির সফরে ভারত–ওমানের প্রস্তাবিত ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (CEPA) এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ আলোচনায় অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। এসব চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
ওমানকে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া আয়োজনকারী প্রথম উপসাগরীয় দেশও হলো ওমান। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুক্ম (Duqm) বন্দরে প্রবেশাধিকার দিয়েছে দেশটি। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতা ভারত–ওমান সম্পর্ককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
আরও
ওমানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা দুই দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে ভারতকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন দিয়ে আসছে ওমান, যার মধ্যে ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (OIC) উল্লেখযোগ্য।
ভারত–ওমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী। মাস্কাটে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৩–২৪ অর্থবছরের ৮.৯৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১০.৬১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোদির আসন্ন সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।











