গাজা উপত্যকায় অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় এক বয়স্ক নারী ও তাঁর ছেলেসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেইত লাহিয়া, জাবালিয়া ও জেইতুন এলাকায় চালানো ড্রোন ও স্থল হামলায় এসব প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, গাজা নগরীতে ৭০ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর ছেলেকে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন তাড়া করে লক্ষ্য করে হামলা করে। ড্রোনটি দীর্ঘ সময় তাঁদের মাথার ওপর ঘোরাফেরা করায় কেউ তাঁদের সাহায্যে এগোতে পারেনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পৃথক অভিযানে তারা তিনজনকে হত্যা করেছে, যারা কথিতভাবে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে একটি অচিহ্নিত সীমারেখা অতিক্রম করেছিল। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল সেনারা এ সীমারেখা পর্যন্তই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে সীমারেখাটি দৃশ্যমান না হওয়ায় স্থানীয় অনেক ফিলিস্তিনি অজান্তেই ওই এলাকায় প্রবেশ করছেন বলে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ মন্তব্য করেছেন।
শনি বার ইসরায়েল শুজাইয়া এলাকায় ট্যাংক, ড্রোন ও স্থলবাহিনী মোতায়েন করে বহু আবাসিক ভবন ও জনপরিষেবা অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। এই হামলায় বহু বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে গাজার পূর্ব ও পশ্চিমাংশে বালুর বাঁধ নির্মাণ ও ট্যাংক মোতায়েনের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী শহরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।
আরও
গাজার মানবিক পরিস্থিতি শীতের আগমনে আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেম জানায়, ঝড়ে ১৩ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ থাকায় শীতের পোশাক, ওষুধ ও খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নিহত ৩৬৭ ফিলিস্তিনির মধ্যে অন্তত ৭০ জনই শিশু।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর (ওসিএইচএ) বলছে, গাজার প্রতি চারটি পরিবারের একটি এখন দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পাচ্ছে এবং প্রতি দশটি পরিবারের একটি অন্তত একদিন পুরোপুরি অনাহারে কাটিয়েছে। তহবিল সংকটের কারণে মানবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে; প্রয়োজনীয় ৪০০ কোটি ডলারের মাত্র ৪০ শতাংশ তহবিল এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।












