রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ইউক্রেনকে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যেই গ্রহণ করতে হবে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দেন।
ট্রাম্প বলেন, শীত শুরু হওয়ার আগে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। তার দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন কোনো যুদ্ধ চান না। একইসঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি চলছে, যা মস্কোর বৈশ্বিক বাজারে তেল বিক্রি কঠিন করে তুলবে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন শান্তি পরিকল্পনায় রয়েছে ২৮টি শর্ত। শর্তগুলোর মধ্যে ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করা, সেনাবাহিনীকে ছয় লাখ সদস্যে সীমিত রাখা এবং ভবিষ্যতে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অন্যতম। এর বিনিময়ে পশ্চিমা দেশগুলো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অবকাঠামো পুনর্গঠন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংহতি বৃদ্ধির আশ্বাস দেবে।
আরও
এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশের জন্য এটি বহুমাত্রিক সিদ্ধান্তের কঠিন সময়। ইউক্রেনকে হয় কঠিন শর্ত মেনে নিতে হবে, নয়তো কঠিন শীতের মুখোমুখি হতে হবে— পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে তিনি জানান, ইউক্রেন সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে এবং নিজেদের পাল্টা প্রস্তাবও উপস্থাপন করবে, যাতে রাশিয়া কিয়েভকে শান্তিবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে না পারে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পায়নি। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেনকে আলোচনায় আনতেই সামরিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি কিয়েভকে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।











