ক্যারিবীয় সাগরের গভীর থেকে ৩০০ বছর আগে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ যুদ্ধজাহাজ ‘সান হোসে’ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের ও ব্রোঞ্জের কয়েন, একটি পোরসেলিন কাপ এবং একটি কামান উদ্ধার করেছে কলম্বিয়া। সরকার এই উদ্ধারকে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে ঘোষণা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে থাকা সকল সম্পদের মূল্য বর্তমানে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে এই ধনসম্পদের মালিকানা নিয়ে কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সমুদ্রগবেষণা প্রতিষ্ঠান সি সার্চ-আর্মাদা (এসএসএ)-এর আইনি লড়াই চলমান।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ‘সান হোসে’ গ্যালিয়নটি স্প্যানিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির আক্রমণে ডুবে যায়। বিশ্বাস করা হয়, জাহাজটিতে লাতিন আমেরিকার উপনিবেশ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ সোনা, রূপা ও পান্না স্পেনে পাঠানো হচ্ছিল। জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই এই সম্পদ ঘিরে নানা অভিযাত্রা ও গবেষণা চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযান আবারও বৈশ্বিক মনোযোগ কাড়ছে।
কলম্বিয়া সরকার দাবি করছে, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক গবেষকদের সহায়তায় তারা সান হোসের অবস্থান নির্ণয় করে। অন্যদিকে, এসএসএ দাবি করছে, তারা ১৯৮০-এর দশকের শুরুতেই জাহাজটির অবস্থান চিহ্নিত করেছিল। এ দাবি ভিত্তি করে সংস্থাটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে মামলা করেছে এবং জাহাজের মোট আনুমানিক মূল্যের অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পাওনার দাবি জানাচ্ছে।
আরও
কলম্বিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্ধার কার্যক্রম শুধু ধনসম্পদ উদ্ধারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ১৮ শতকের ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস গবেষণার জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী ইয়ান্নাই কাদাামানি ফনরোডোনা উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “এটি প্রমাণ করে কলম্বিয়া তার পানির নিচের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা অর্জন করেছে।”
সরকার জানিয়েছে, পানির নিচে রোবট ব্যবহার করে উদ্ধার করা এসব প্রত্নবস্তু এখন বিশেষ ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। পরে এগুলো জনসাধারণের প্রদর্শনী ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সান হোসে’ গ্যালিয়নের এই নতুন আবিষ্কার উপনিবেশ যুগের সামুদ্রিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
ভ












