সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে ওয়াশিংটন রিয়াদকে নানা কৌশল ও প্রলোভনে কাছে টানতে চাইছে। এ প্রক্রিয়ার পেছনে ইসরায়েলের সক্রিয় ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে—যে দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির নীতিকে প্রভাবিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহী। ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাব হলো—রিয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ, তবে এর সাথে যুক্ত রয়েছে একটি অঘোষিত শর্ত: ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন।
এদিকে ইরানের আগেই পারমাণবিক শক্তি অর্জনে সৌদিকে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে অফিসিয়াল সফরে আমন্ত্রণ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সোমবার ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন প্রিন্স সালমান। গত সপ্তাহে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, সৌদির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সিভিল পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আরও
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসেই চুক্তির কাঠামোতে স্বাক্ষর হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বছরের শেষে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ১২৩ অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত মেনে কাজ এগিয়ে নিতে সম্মত হতে পারে—যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে পারমাণবিক প্রযুক্তি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে এবং অস্ত্রায়ন রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।
তবে সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, রিয়াদ এখনো সব শর্তে পুরোপুরি রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখার বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। যদিও মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী আশাবাদী—সৌদি আরবের সঙ্গে ১২৩ চুক্তি হবেই। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীও জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও শর্ত মেনে কাজ করতে প্রস্তুত।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার বড় একটি অংশই হলো জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমানো। সে লক্ষ্যেই পারমাণবিক শক্তিকে ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এই সহযোগিতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে।












