বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক, শক্তিশালী এবং স্টেলথ প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের এফ–৩৫ বর্তমানে সামরিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা, অতিরিক্ত গতি এবং বহুমুখী আকাশ–যুদ্ধ সক্ষমতার কারণে যেটি বহু দেশের কাছে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। বহুদিন ধরেই সৌদি আরব এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানটি তাদের বিমানবহরে যুক্ত করতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। এবার সেই ইচ্ছা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে এফ–৩৫ বিক্রির বিষয়ে তিনি “ইতিবাচক” এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমি বলব যে আমরা এটি করব— আমরা এফ–৩৫ বিক্রি করব।” ট্রাম্পের বক্তব্যের মাত্র একদিন আগে হোয়াইট হাউসে সফর করেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, যার ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, লকহিড মার্টিনের তৈরি উন্নত এফ–৩৫ জেট কেনার ব্যাপারে রিয়াদ অনেকদিন ধরেই গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে। “তারা আমাকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছে। তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এফ–৩৫ কিনতে চায়,”— বলেন ট্রাম্প। এছাড়া সৌদি আরব অন্যান্য ধরনের যুদ্ধবিমান কিনতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস ও রিয়াদের মধ্যে আলোচনায় এফ–৩৫ ক্রয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ব্লুমবার্গ এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে বলেছে, ট্রাম্প ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বৈঠকে এফ–৩৫ চুক্তির বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হতে পারে।
এফ–৩৫ ছাড়াও এই সফরে আরও কয়েকটি উচ্চমূল্যের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে সম্ভাব্য একটি বড় চুক্তিও রয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে বলে বিশ্লেষকদের মত।












